বাংলাদেশের সেরা অনলাইন ক্রিকেট বেটিং সাইট খুঁজলে সার্চের প্রথম পাতায় যে তালিকাগুলো আসে, সেগুলোর প্রায় সবই এক জিনিস: অ্যাফিলিয়েট বিপণন। অর্থাৎ তালিকাটি যে সাইট প্রকাশ করেছে, সেখানকার লিঙ্ক ধরে কেউ গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুললে সেই সাইট অপারেটরের কাছ থেকে টাকা পায়। এতে তালিকাটা আপনাআপনি মিথ্যা হয়ে যায় না, কিন্তু সেটা স্বাধীন পরীক্ষার ফলও নয়, আর ক্রমটা কোন মাপে সাজানো হয়েছে তা প্রায় কোথাও লেখা থাকে না। নিচে সেই ব্যবস্থাটা ধাপে ধাপে, কারণ এটুকু জানা থাকলে যেকোনো তালিকা, এই সাইটের পাতাগুলোসহ, আলাদা চোখে পড়া যায়।

বাংলাদেশের সেরা অনলাইন ক্রিকেট বেটিং সাইট নিয়ে এত তালিকা আসলে কারা লেখে?

লেখে অ্যাফিলিয়েট প্রকাশকরা, অর্থাৎ যারা অপারেটরের হয়ে নতুন গ্রাহক পাঠানোর কাজ করে, কোনো পরীক্ষাগার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়। এই প্রশ্নে সার্চের প্রথম পাতায় সাধারণত চার ধরনের পাতা থাকে: অপারেটরদের নিজেদের সাইট, ইউটিউবের ভিডিও, প্রশ্নোত্তরের ফোরামে খোলা আলোচনা, আর "সেরা সাইট" বা "টপ টেন" ধাঁচের তালিকা। শেষ দলটাই সংখ্যায় বেশি, আর সেগুলোর আয়ের উৎস পাঠকের চোখের আড়ালে থাকে।

যেটা এই পাতাগুলোতে প্রায় কখনো থাকে না, সেটা হলো পদ্ধতি। কে দেখেছে, কবে দেখেছে, অ্যাকাউন্ট খুলে দেখেছে কি না, কোন কোন জিনিস মিলিয়ে দেখে ক্রমটা সাজানো হয়েছে, এর একটাও লেখা থাকে না। ফলে পাঠকের হাতে শুধু ফলটা আসে, আর যে হিসাব থেকে ফলটা এসেছে সেই হিসাবটা আসে না। শিরোনামে সাল বসানো থাকলেও সেটা আলাদা কিছু বলে না: সাল বলে কবে পাতাটা প্রকাশ বা হালনাগাদ হয়েছে, কবে কী পরীক্ষা করা হয়েছে তা নয়।

এটা কোনো একটা সাইটের দোষ নয়, এটা গোটা ধরনটার গঠন। এবং গঠনটা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো টাকাটা কোন পথে চলে সেটা দেখা।

একটা "সেরা সাইট" তালিকা থেকে আয় হয় কীভাবে?

আয় হয় তখন, যখন পাঠক ওই তালিকার লিঙ্ক ধরে গিয়ে অপারেটরের কাছে অ্যাকাউন্ট খোলেন। অপারেটরের একটা অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থাকে, প্রকাশক সেখানে যোগ দেয়, আর তারপর তাকে একটা চিহ্নিত লিঙ্ক দেওয়া হয়। লিঙ্কের ভেতরে প্রকাশকের নিজস্ব নম্বর বসানো থাকে, যাতে অপারেটর জানতে পারে নতুন ব্যবহারকারীটি কার পাঠানো।

এই অংশটা পাঠক নিজেই দেখতে পারেন, আর এটাই ধরনটা চেনার দ্রুততম উপায়। কোনো তালিকার "এখানে যান" বা অপারেটরের নামের লিঙ্কে মাউস রাখলে, বা মোবাইলে চেপে ধরলে, যে ঠিকানাটা দেখা যায় সেটা সাধারণত অপারেটরের নিজের ঠিকানা নয়: মাঝখানে অন্য একটা ডোমেইন থাকে এবং শেষে কতগুলো সংখ্যা বা অক্ষরের জোড়া থাকে। ওই সংখ্যাগুলোই প্রকাশকের পরিচয়, আর ওগুলো থাকার একমাত্র কারণ হলো হিসাব রাখা।

পারিশ্রমিকের ধরন সাধারণত দুই রকম হয়, আর দ্বিতীয়টার একটা ফল আছে যা কোথাও লেখা থাকে না। প্রথম ধরনে প্রকাশক প্রতি নতুন খেলোয়াড়ের জন্য একবার নির্দিষ্ট টাকা পায়। দ্বিতীয় ধরনে, যাকে রেভিনিউ শেয়ার বলা হয়, প্রকাশক ওই খেলোয়াড়ের কাছ থেকে অপারেটরের যে আয় হয় তার একটা ভাগ পেতে থাকে, মাসের পর মাস। অপারেটরের আয় মানে খেলোয়াড়দের নিট ক্ষতি, তাই দ্বিতীয় ধরনে প্রকাশকের আয় বাড়ে তখনই, যখন পাঠানো মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে খেলতে থাকেন এবং হারতে থাকেন। এটা কোনো ষড়যন্ত্রের কথা নয়, এটা চুক্তির গঠন, আর এটুকু জানা থাকলে "আমাদের সুপারিশ" কথাটার ওজন আলাদাভাবে বোঝা যায়।

এই আয়ের কাঠামো তালিকার ক্রমে কী বদল আনে?

সবচেয়ে বড় বদলটা ক্রমে নয়, তালিকায় কারা ঢুকল তাতে। যে অপারেটরের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামই নেই, বা যার শর্ত প্রকাশক নেননি, সে ওই তালিকায় থাকতে পারে না, তার গুণমান যাই হোক। অর্থাৎ তালিকাটা প্রথমে "যারা কমিশন দেয়" তাদের তালিকা, তারপরে একটা ক্রম। এই বাছাইটা আগেই হয়ে যায়, পাঠকের চোখের আড়ালে, এবং পরের ক্রমটা যত যত্ন করেই সাজানো হোক, ওই বাছাইটা সেটা বদলায় না।

ক্রমের বেলায় কথাটা আরও সাবধানে বলা দরকার। একেকটা প্রকাশক কীসের ভিত্তিতে সাজায় তা বাইরে থেকে জানার উপায় নেই, আর কোনো নির্দিষ্ট সাইট সম্পর্কে এখান থেকে সেটা দাবি করাও যায় না। যেটা লুকানো নয় তা হলো কাঠামোটা কোন দিকে ঠেলে: কমিশনের শর্ত যেখানে আলাদা, সেখানে ক্রমে উপরে রাখার স্বার্থও আলাদা। পাঠকের কাজ এই কারণে কাউকে দোষ দেওয়া নয়, বরং ক্রমটাকে প্রমাণ হিসেবে না নেওয়া।

আর একটা কথা এখানে যোগ করা দরকার, কারণ এটা ক্রিকেটের বেলায় বেশি খাটে। একই সপ্তাহে দুটো তালিকা দুই রকম ক্রম দেখাতে পারে, এবং দুটোই নিজের ক্রম ভুল প্রমাণ করার মতো কিছু হাতে দেয় না। যেখানে দুটো ফল মেলে না অথচ কোনোটার পেছনে প্রকাশিত মাপকাঠি নেই, সেখানে অমিলটাই যথেষ্ট ইঙ্গিত।

উপরের অবস্থান বা "নম্বর ওয়ান" ব্যাজ কি লাইসেন্সের প্রমাণ?

না, ব্যাজটা যে পাতায় বসানো সেই পাতাই ব্যাজটা বানিয়েছে, আর কোনো তৃতীয় পক্ষ সেটা যাচাই করেনি। লাইসেন্স একটা আলাদা জিনিস, এবং ভালো খবর হলো লাইসেন্সের প্রশ্নটা তালিকা ছাড়াই মেলানো যায়: যে কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দেয়, তারাই লাইসেন্সধারীদের তালিকা নিজেদের সাইটে প্রকাশ করে রাখে, বিনামূল্যে। কুরাসাওয়ের ক্ষেত্রে সেটা কুরাসাও গেমিং অথরিটির লাইসেন্স রেজিস্টার, যেখানে অনলাইন গেমিং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা আলাদা করে দেওয়া আছে।

ওই পাতাটা নিজের সীমাটাও লিখে রেখেছে, আর এই বাক্যটাই একটা তালিকার সঙ্গে একটা প্রাথমিক উৎসের পার্থক্য দেখায়। কর্তৃপক্ষ নিজেই জানায় যে এই তালিকাগুলো লাইসেন্সের বর্তমান বৈধতার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ লাইসেন্সের অবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, এবং এই তালিকা থেকে কোনো অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যে উৎসটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সেটিই নিজের অনিশ্চয়তার কথা লিখে রেখেছে; আর যে তালিকা "নম্বর ওয়ান" লিখে দেয়, সে নিজের সম্পর্কে কিছুই লেখে না।

দ্বিতীয় কথাটা আরও জরুরি, কারণ পাঠক সাধারণত লাইসেন্সের কাছ থেকে যা আশা করেন তা এটা নয়। একই নিয়ন্ত্রক তাদের অনলাইন গেমিং নিয়ন্ত্রণের পাতায় স্পষ্ট করে লিখেছে যে তারা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত অভিযোগ দেখে না এবং খেলোয়াড় ও অপারেটরের বিরোধ মেটানো তাদের এখতিয়ারে পড়ে না। তাই একটা নাম রেজিস্টারে থাকা মানে এই নয় যে সমস্যা হলে কেউ এসে মীমাংসা করে দেবে। রেজিস্টারে নাম থাকাই যেখানে এতটুকু মাত্র বলে, সেখানে কোনো তালিকার প্রথম স্থান আরও অনেক কম বলে।

তালিকার ক্রম বাদ দিয়ে তালিকাটা নিজেই যাচাই করবেন কীভাবে?

তিনটে জিনিস দেখে, আর তিনটেই পাতাটা না ছেড়েই দেখা যায়। প্রথম, কমিশনের কথা লেখা আছে কি না এবং কোথায় লেখা আছে: পাতার শুরুতে, নাকি নিচে ছোট হরফে, নাকি একেবারেই নেই। দ্বিতীয়, মাপকাঠি আর তারিখ: কী কী মিলিয়ে দেখা হয়েছে, কবে দেখা হয়েছে, আর সেটা অ্যাকাউন্ট খুলে না খুলে। তৃতীয়, দাবির পাশে উৎস: লাইসেন্স, পেমেন্ট বা নিয়ম নিয়ে যা লেখা আছে তার পাশে এমন কোনো লিঙ্ক আছে কি না যেটা খুলে আপনি নিজে মিলিয়ে নিতে পারেন।

তিনটের একটাও না থাকলে পাতাটা ফেলে দেওয়ার দরকার নেই, শুধু জায়গাটা বদলে যায়: ওটা তখন বিপণন, আর বিপণন থেকে ঠিকানা পাওয়া যায়, প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রমাণটা তখন আপনাকে নিজেই মেলাতে হয়, আর সেই মেলানোর ঘরগুলো এই ব্লগে আলাদা করে ভাঙা আছে। একটা প্ল্যাটফর্ম ক্রিকেটকে কতদূর ধরে আর নিয়মে কী লিখে রেখেছে, সেটা আছে সেরা ক্রিকেট প্ল্যাটফর্ম যাচাইয়ের লেখাটিতে; আর সাইটটা আদৌ আসল কি না, নকল ডোমেইন বা নকল অ্যাপ কীভাবে চেনা যায়, সেটা আছে সাইট আসল কি না যাচাইয়ের লেখাটিতে। এখানে সেগুলো আবার লেখা হচ্ছে না।

এই সাইটটি নিজে কী, আর এখানে কোনো ক্রমতালিকা নেই কেন?

এই সাইটটিও অ্যাফিলিয়েট, অর্থাৎ এখানকার লিঙ্ক ধরে কেউ অ্যাকাউন্ট খুললে এই সাইট কমিশন পায়, আর কথাটা প্রতিটি পাতার নিচে লেখা আছে। উপরের ব্যাখ্যাটা তাই বাইরের কারও সম্পর্কে নয়: ডান দিকের পথটা এই সাইটের ক্ষেত্রেও একই।

পার্থক্যটা একটাই, আর সেটা গুণের নয়, গঠনের। এখানকার অ্যাফিলিয়েট তালিকায় অপারেটর একটিই, 22Bet, তাই সাজানোর মতো কোনো ক্রম নেই এবং একটিমাত্র নামকে "সেরা দশ" বলে সাজানোটাই হতো অসাধু অংশ। যা আছে তা একটা সাইটের সম্পর্কে কী লেখা আছে আর কী লেখা নেই তার ভাঙা হিসাব, সেটা রাখা আছে রিভিউয়ের পাতায়, এবং সেখানে কোনো নম্বর বা ক্রম বসানো নেই। এই লেখাটির উদ্দেশ্য অন্য তালিকাগুলোকে খারাপ প্রমাণ করা নয়: উদ্দেশ্য এটুকু যে একটা ক্রম কী বলতে পারে আর কী পারে না, সেটা পাঠকের হাতে থাকুক।

বাংলাদেশ থেকে এটা পড়ার আগে কী জানা দরকার?

বাংলাদেশে জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে, আর তাতে অনলাইনে জুয়ায় অংশ নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ; জুয়ার প্রচার, বিজ্ঞাপন ও অ্যাফিলিয়েট প্রচারণাও আলাদা করে শাস্তিযোগ্য। কোনো বিদেশি লাইসেন্স এই অবস্থান বদলায় না, কারণ বিদেশি লাইসেন্স অপারেটরকে তার নিজের এখতিয়ারে নিয়ন্ত্রণ করে, বাংলাদেশে বসা ব্যবহারকারীকে নয়। এই প্রশ্নটা এই ব্লগে আলাদা জায়গায় রাখা আছে: সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তরের পাতায়, আর বিস্তারিতভাবে ইংরেজিতে আইনি অবস্থান নিয়ে লেখাটিতে। এই লেখাটি ব্যবস্থাটা কীভাবে কাজ করে তার ব্যাখ্যা, আইনি পরামর্শ নয়।

বাকি কথাগুলো ছোট কিন্তু বাদ দেওয়ার নয়। বাজি ধরা কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, ১৮ বছরের কম বয়সে নয়। কোনো তালিকা, কোনো ক্রম আর কোনো যাচাই ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ দামের ভেতরে অপারেটরের ভাগ আগে থেকেই বসানো থাকে। যে টাকাটা হারালে মাসের হিসাব ভেঙে পড়বে সেই টাকা এখানে রাখার কোনো নিরাপদ উপায় নেই, আর খেলাটা যদি সময়, ঘুম বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, সেটা থামার সংকেত; এ ব্যাপারে পেশাদার সহায়তা নেওয়া যায়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ইউটিউব বা ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া "সেরা সাইট" তালিকার বেলায় নিয়মটা কি আলাদা?

টাকার পথটা একই, কিন্তু দুটো জিনিস আরও খারাপ হয়। চিহ্নিত লিঙ্কটা সেখানে ভিডিওর বর্ণনায় বা মন্তব্যে থাকে, তাই কে পাঠাচ্ছে সেটা দেখতে হলে আলাদা করে খুঁজতে হয়, আর লেখা তালিকার তুলনায় সেখানে মাপকাঠি লেখার জায়গাই কার্যত নেই। তার ওপর একটা প্রকাশিত ভিডিও পরে সংশোধন করা যায় না: ডোমেইন বদলে গেলে বা শর্ত বদলে গেলে পুরনো ভিডিওটা পুরনো তথ্য নিয়ে বছরের পর বছর চলতে থাকে, অথচ দেখতে নতুনের মতোই লাগে।

তালিকাটি যদি নিজেই লিখে দেয় যে তারা কমিশন পায়, তাহলে কি সেটা নির্ভরযোগ্য?

ওই ঘোষণাটা সততার প্রশ্নের উত্তর দেয়, নির্ভুলতার প্রশ্নের নয়, আর দুটো আলাদা জিনিস। কমিশনের কথা লিখে দেওয়ার মানে পাতাটা নিজের স্বার্থটা গোপন করছে না, কিন্তু তাতে ক্রমটা কোন মাপে সাজানো সেটা জানা যায় না এবং সেখানকার তথ্য মিলিয়ে দেখাও হয়ে যায় না। ঘোষণাটা থাকলে যা বদলায় তা হলো পরের ধাপটা: তখন আপনি জানেন ঠিক কোন জায়গায় স্বার্থ আছে, আর সেই জায়গার দাবিগুলোই আগে উৎস মিলিয়ে দেখা দরকার।